১
প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।
২
বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি 'নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার' ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।
৩
সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচারবিভাগের ক্ষমতার সুসমন্বয় করা হবে।
৪
পরপর দুই টার্মের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
৫
বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবীদের সমন্বয়ে সংসদে 'উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা' প্রবর্তন করা হবে।
৬
সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বিবেচনা করা হবে।
৭
স্বাধীন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। ইভিএম নয়, পেপার-ব্যালটে ভোট নিশ্চিত করা হবে।
৮
সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
৯
বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। একটি 'জুডিশিয়াল কমিশন' গঠন করা হবে।
১০
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ প্রশাসন গড়তে 'প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন' গঠন করা হবে।
১১
গণমাধ্যমের পূর্ণস্বাধীনতা নিশ্চিতে 'মিডিয়া কমিশন' গঠন করা হবে। সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে।
১২
দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। অর্থপাচার অনুসন্ধান করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।
১৩
সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হবে।
১৪
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতে 'অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন' গঠন করা হবে।
১৫
'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার' — সকল ধর্মাবলম্বীর পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
১৬
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
১৭
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দায়মুক্তি আইন বাতিল। নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে।
১৮
বৈদেশিক সম্পর্কে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
১৯
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
২০
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর স্বাধীন ও শক্তিশালী করা হবে।
২১
মুক্তিযুদ্ধে যার যার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান এবং শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
২২
যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা দেওয়া হবে।
২৩
নারীর ক্ষমতায়ন ও জাতীয় উন্নয়নে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
২৪
মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার এবং জিডিপির ৫% শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হবে।
২৫
'সবার জন্য স্বাস্থ্য' নীতিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে।
২৬
জিডিপির ৫% স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এবং হত-দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারিত করা হবে।
২৭
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং শস্য বীমা, পশু বীমা ও মৎস্য বীমা চালু করা হবে।
২৮
সড়ক, রেল ও নৌপথের সংস্কার করে সমন্বিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
২৯
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টেকসই কর্মকৌশল এবং নদী ও জলাশয় দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০
তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৩১
জাতীয় মহাপরিকল্পনায় কৃষি জমি নষ্ট না করে পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়নের নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে।